স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্বচ্ছল ও দুস্থ পরিবারের মাঝে হাসি ফোটাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে ৯টি গরু কোরবানির জন্য ইতিমধ্যে কেনা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে এই কোরবানির পশু ক্রয় করা হয়।
ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদের মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি এবিএম সিরাজুল মামুন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কোরবানির শিক্ষা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আল্লাহ অবশ্যই আমাদের কোরবানি কে কবুল করুন।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সভাপতি ডাঃ শরীফ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বলেন, ঈদের নামাজের পর মহান আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা। তাদের ঘরে-বাইরে ছড়িয়ে পড়বে ঈদের আনন্দ। এটা অবশ্যই সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ, অনেক মুসলমান ঈদের জামাতে শরিক হতে পারলেও কোরবানিতে শরিক হতে পারবে না। এই সামর্থ্য তাদের নেই। এজন্য ইসলাম ধনীদের কোরবানির গোশত বণ্টনের একটা ঐচ্ছিক বিধান দিয়েছে। এই বিধান মানলে গরিব অসহায় মানুষেরা কোরবানি না দিয়েও গোশতের অংশ পাবে। ভাগাভাগি করে নিতে পারবে ঈদের পবিত্র আনন্দ। এজন্য যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের প্রতি অসহায়-দুর্গত মানুষদের সাহায্য করতে পবিত্র কুরআনে নির্দেশ রয়েছে। মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সবসময় অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, তাদের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িন আল্লাহর রাসুলের এই আদর্শ লালন ও পালন করেছেন। আসুন আমরাও পালন করে দুনিয়া ও আখেরাতে অফুরন্ত কল্যাণ লাভ করি। আমাদের কোরবানির গোশত তুলে দেই অসহায় মানুষের পাতে।
মহানগর সেক্রেটারি ইলিয়াস আহমদ বলেন, আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে ৩ টি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমে প্যাকেজে কোরবানীর নিয়তে সম্পূর্ণ ১ টি গরু ৭০ হাজার টাকা টাকা থেকে শুরু, দ্বিতীয় প্যাকেজে কোরবানীর নিয়তে ৭ শেয়ার হিসেবে প্রতি শেয়ার ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ও তৃতীয় প্যাকেজে শুধু গোশত বিতরণের নিয়তে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দান করা যাবে। ইতিমধ্যে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের পরের দিন প্রকৃত হকদারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কোরবানীর গোশত বিতরণ করা হবে। খেলাফত মজলিস সব সময় মানবিক। মানবতার সেবায় অগ্রসৈনিক।
এ প্রসঙ্গে যুগ্ন সম্পাদক খন্দকার হাফেজ আওলাদ বলেন, কেবল আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ানো। অসহায় মানুষের মেলে ধরা পাত্রে পড়তে হবে বলার মতো গোশতের টুকরো। যা দেখে ছুঁয়ে যাবে অসহায় মানুষের হৃদয়, যা হয়ে আল্লাহর আরশে আজিম পর্যন্ত।
নারায়ণগঞ্জ জেলা খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, আমরা প্রস্তুত গরীব অসহায় দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। ইতিমধ্যে মহানগর কমিটি ৪টি ও জেলা কমিটি ৫টি সহ মোট ৯ টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আল্লাহ সবার কোরবানি কে কবুল করুন। আমীন।