অবৈধ তেলের দোকান উচ্ছেদ ও অবৈধ ট্যাংকলরী সরাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইলে অবস্থিত পদ্মা ওয়েল কোম্পানী লিমিডেট কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও এসপির বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রায় একমাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন নিশ্চপ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, গত ২২ মার্চ গোদনাইল পদ্মা ডিপোর ব্যবস্থাপক মোঃ শাহজাহান কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত ডিএনডি প্রধান সড়ক হতে পদ্মা ওয়েল কোম্পানী লিমিটেড এর গোদনাইল ডিপোর মেইন গেইট পর্যন্ত সংযোগ সড়কের দুইপাশে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা তেলের দোকান উচ্ছেদ এবং যত্রতত্র ট্যাংকলরী রেখে সড়ক যানজট মুক্ত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ২৩ মার্চ ডিসি, এসপি, র্যাব-১১ অধিনায়ক, এনএসআই এর উপ-পরিচালক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যার সূত্র নং-২৮.২২.৬৭৫৮.৬৩৪.১২.০০২.২১। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্মারক নং-১০৪১ ও ৪৫৯৯।
অভিযোগটি প্রশাসনের হস্তগত হলে অবৈধ তেলের দোকান মালিক ও অসাধু ট্যাংকলরীর মালিকগণ প্রশাসনের সাথে আতাত করে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখার পায়তারা চালায়।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের গোদনাইল পদ্মা ডিপো শাখার সভাপতি জাহিদ বলেন, আইনের প্রশাসন আছে তারা চাইলে মামলা করতে পারে আমরা ট্যাংকলরী যত্রতত্র ফেলে রাখি না। কিছু কিছু অবৈধ লোক ট্যাংকলরী ফেলে রাখে। সরকারি জায়গায় যেভাবে খুশি সেভাবে গাড়ি ফালায়ে রাখব তা কি করে হয়, পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমরা সহযোগিতা করব।
যত্রতত্র ভাবে ট্যাংকলরী রাস্তায় ফেলে রেখে যানজটের সৃষ্টি করে বলে স্বীকার করে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফারুক বলেন, এখানে ১২৭টি ট্যাংকলরী রয়েছে এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আরও ২০০ ট্যাংকলরী গাড়ি এখানে আসে। অথচ আমাদের যে টার্মিনাল রয়েছে সেখানে ধারণক্ষমতা মাত্র ৮০টি গাড়ির। বর্তমানে আরেকটি টার্মিনাল জরুরী।
আমরা সংগঠনের পক্ষথেকে কোম্পানীকে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ কোন কর্ণপাতই করেননি। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, অভিযোগটি কার কাছে আছে তা দেখতে হবে। আমার মা মারা গেছেতো তাই ছুটিতে আছি। এখন কিছু বলতে পারছি না। তবে বিষয়টি ওসি এড়িয়ে গেলেও আরও জানা যায় গত ১লা এপ্রিল প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসি তদন্ত শরীফ আহম্মেদকে দায়িত্ব দিয়েছেন ওসি।
এ প্রসঙ্গে পদ্মা ওয়েল কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপক মোঃ শাহজাহান কবির চৌধুরী বলেন, করোনা ও লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ তারপরও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে।
চিঠিতে জানা যায় বিমানের জ্বালানি সহ সকল প্রকার তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষে অবৈধ তেলের দোকান উচ্ছেদ এবং সড়ক যানজট মুক্ত রাখার জন্য অবৈধ ট্যাংকলরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ডিপোর নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি খুবই জরুরী বিধায় প্রশাসনের নিকট আশুহস্তক্ষেপ কামনা করে পদ্মা ওয়েল কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।