আত্মার সঙ্গে আত্মার শক্তিশালী বন্ধন হলো বন্ধু। পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সততা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সমবেদনা, মনের অনুভূতি প্রকাশ, ভয়কে জয় করার নির্ভরশীল সঙ্গী হলো বন্ধু। ন্ধুত্ব চলমান একটি প্রক্রিয়া। জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে আস্তা এবং নির্ভরতার বন্ধুত্ব স্কুলজীবনের সোনা বন্ধুরা। তাই স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব অটুট থাকে আজীবন। বন্ধুত্বের বন্ধনে সেতু বন্ধন রচনায় ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের লা ভিস্তা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দীর্ঘ ২৫ বছর পর একসাথে হলো নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমীর ব্যাচ ৯৭ এর বন্ধুরা। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের বন্ধু সায়েম কবিরের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমীর দেলোয়ার হোসেনের আন্তরিকতায় সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২৫ বছর পর মিলন মেলায় পরিণত হয় বন্ধুদের আড্ডায়। আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। স্মৃতিচারণ করেন স্কুলের সেই সব দিনগুলোর কথা। সৃজনশীল আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মহসিন রেজা, নাদিম কবীর, ইয়াসির ইবনে মিজান, সামসুল আরেফিন রানা, আরাম দেওয়ান, এম এ মান্নান ভূঁইয়া, অরিন্দম পাল ঝিনুক, সিকদার সোহাগ, আল আমীন সাত্তার, আরিফুর রহমান, হাসিব চৌধুরী, মোস্তফা হানিফ মাসুম ও ব্যাচ ৯৭ এর সভাপতি ডাঃ জেনিথ এবং সহ-সভাপতি জিতু সুমন প্রমুখ।
দেলোয়ার হোসেন এই মিলন মেলা প্রসঙ্গে বলেন, আমি দেখেছি বন্ধুত্বের হাসিমাখা মুখ। তারা খুব আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। সময়–সুযোগমতো সবাই একসঙ্গে আড্ডা দেয়। হাসি–ঠাট্টায় সবাই জমিয়ে রাখে আড্ডার আসর। গরম চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে জীবন চলার পথের অভিজ্ঞাতা আদান–প্রদান করা হয়। আবার কখনো কখনো সমসাময়িক জীবন নিয়ে আগামীর ভাবনাগুলো জানতে চাওয়া হয়। দীর্ঘ আড্ডায় হাসি–ঠাট্টার পাঠচক্রের ইতি টেনে ফিরে যাই যার যার ঠিকানায়। সব বাঁধাবিপত্তি পার হয়ে বন্ধু নামের একই ছাতার নিচেই আমরা ফিরে আসি বারবার। এই জীবন চলার পথে কেউ আমরা দীর্ঘস্থায়ী নই। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আমরা দূরের বাসিন্দা হয়ে যাব একদিন। দূর সীমানার বাইরে চলে গেলেও অন্তরে অটুট থেকে যায় যেন আন্তরিক টান। সুখে-দুঃখে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে পাশে থাকুক বিশ্বস্ত হয়ে বন্ধুত্বের হাত। অনন্তকাল ভালোবাসার বন্ধনে মজবুত হয়ে থাকুক আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন।
ইয়াসির ইবনে মিজান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দরদী বন্ধুরা বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তোমরাও সুখের পরশ পেতে পার। তবে বন্ধুত্বের গুরুত্ব পেতে হলে আগে নিজেকে আন্তরিক হতে হবে। তাহলে ইচ্ছে শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, জুমঅ্যাপ, পেইজবুক গ্রুপে বন্ধুদের নিয়ে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারবে। আর তখনই বুঝবে বন্ধুত্বের জীবন কতইনা মধুর। ফিরে পাবে জীবনের সেই ফেলে আসা মুহূর্ত। আর তখনই অনুধাবন করবে ইশ…যদি আবারও স্কুল জীবনে ফিরতে পারতাম।