প্রাচীন বিদ্যাপিঠ ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও একই স্থানে থাকা সেহাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্কুল দুটিতে পড়াশোনা করে। কিন্তু গত তিন বছর ধরে বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে বছরের ৬ মাসই পানিতে ডুবে থাকে স্কূলের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকা। গোড়ালী থেকে শুরু করে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে স্কুলের আশপাশের রাস্তায়। রিকশা ব্যতিত কোন মানুষই পা না ভিজিয়ে যাতায়াত করতে পারছে না। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক গাড়ি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মজীবী ও অফিসগামী মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। মুলত এলাকায় গড়ে উঠা শিল্প কারখানার বর্জ্য ও দূষিত পানির কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ।
স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রেলপথ ডাবল লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে পানি নিস্কাশনের পথ সরু করে ফেলা হয়েছে। এতে করে পানি স্বাভাবিক গতিতে সরতে পারে না। এরমধ্যে ড্রেনগুলোও আবর্জনায় ভরপুর। তারসাথে রয়েছে ৭ টি শিল্প কারখানা ও ডাইংকের বর্জ্য এবং দূষিত পানি।
স্কুল শিক্ষকরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের সামনে নর্দমা আর বৃষ্টির পানি জমে আছে। আমাদের চলাফেরায় অনেক সমস্যা হয়। ছাত্র ছাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা জানায়, জলাবদ্ধতার কারণে আমরা স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারি না। জমে থাকা নোংরা পানির কারণে আমাদের পায়ে চুলকানি হচ্ছে। তাছাড়া পোশাকও নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন।
অভিভাবকরা জানান, সারাবছরই পানি জমে থাকে এখানে। ছাত্ররা কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ ও দূষিত পানি পার হয়েই যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। অটোরিকশা দিয়ে আসলে অটো রিকশা উল্টে পড়ে যায়। ময়লা পাড়াইয়া স্কুলে যেতে চায় না সন্তানরা। বাচ্চারা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে। এর স্থায়ী সমাধান আমরা পাচ্ছি না।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, পানির কারণে কাষ্টমার আসেনা। শুধু লোকসানই গুণছি। প্রতিবছরই শুনতে পাওয়া যায়, আগামী বছর থেকে জলাবদ্ধতা আর হবে না। শুধুই প্রতিশ্রুতি। জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতেই হয়।
সেহাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল বাতেন শীঘ্রই জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে তার বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় কল কারখানা ও ডাইংয়ের বর্জ্য এবং দূষিত পানি আসার কারণে এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঐক্যবদ্ধতা না থাকায় সমস্যা সহজেই নিরসন হচ্ছে না। আমি ও আমার এলাকার বেশ কিছু মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় সাময়িক ভাবে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। তবে উপজেলা প্রশাসন ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিষয়ে কাজ করছে। আশাকরি শীঘ্রই আশু সমাধান হবে।