মাত্র ২৩০ টাকা বেসিক বেতনে পিয়ন পদে চাকরিতে যোগ দিয়ে দ্রুত সময়ে কোটিপতি বনে যাওয়া পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর ও দায়রা জজ বেগম ড. জেবুন্নেছা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২ নভেম্বর জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু। তিনি বলেন, জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুদকের মামলায় গত ২৩ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন নাছির উদ্দিন। আদালত তাকে ৮ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন। গতকাল ৮ জানুয়ারি সেই ৮ সপ্তাহ পার হয়ে যায়। তবে এদিন তিনি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বেইলবন্ড দেন। মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।মামলা নথি সূত্রে জানা গেছে, দুই কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং দুই কোটি ১১ লাখ ৭১ হাজার ১৩০ টাকার অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ মামলা করেন সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মো. সবুজ হোসেন। নাছির উদ্দিন চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানাধীন চাতরী গ্রামের মৃত শেখ মোহাম্মদের ছেলে।
জানা যায়, প্রথমে অস্থায়ী ‘সিকিউরিটি গার্ড’ পদে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে যোগদান করলেও পরে ১৯৮৬ সালের ২৩ আগস্ট ২৩০ টাকা বেসিক বেতনে ‘পিয়ন’ পদে চাকরি নিয়মিত হয় তার। ২০১৪ সালের ‘ট্যাংকলরী হেলপার’ থেকে ‘চেকার’, পরের ছয় মাসের মাথায় ‘সুপারভাইজর’ হিসেবে পদোন্নতি পান।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে জমা হওয়া একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল সম্পদ বিবরণী জমা দিতে নাছির উদ্দিনকে নোটিশ জারি করে দুদক। ওই বছরের ১২ মে দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন তিনি।
সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে আনোয়ারার চাতরী এলাকায় শশী কমিউনিটি সেন্টারটি ২৫ লাখ ৫৮ ৭৫০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু প্রকৌশলী দিয়ে যাচাই করে সেটি নির্মাণে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৭ হাজার ১৩৪ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় দুদক। ওই কমিউনিটি সেন্টারটি নির্মাণে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৪ টাকার অর্থ ব্যয় গোপন করেন তিনি। সব মিলিয়ে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৪ টাকা স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন আসামি নাছির। অন্যদিকে দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু ১ কোটি ৭০ লাখ ৬৯ হাজার ২২০ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এতে ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৬ টাকা অস্থাবর সম্পদ গোপন করেছেন বলে নিশ্চিত হন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। সবমিলিয়ে ২ কোটি ১১ লাখ ৭১ হাজার ১৩০ টাকার স্থাবর- অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন। এছাড়া দুই কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে নিশ্চিত হয় দুদক। এরপর দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে গত ২ নভেম্বর এ মামলা দায়ের করা হয়।